|
সিয়েরা লিওনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নির্বাচন | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরা লিওনে নতুন প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনের জন্য জনগণ বিপুল সংখ্যায় ভোট দিচ্ছে৻ এই নির্বাচনকে সিয়েরা লিওনের ভবিষ্যত গড়ার জন্য নতুন এক সুযোগ হিসাবে দেখা হচ্ছে৻ সিয়েরা লিওনে পাঁচ বছর আগের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং দুবছর আগে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী দেশ ছেড়ে গেছে৻ প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী৻ বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমদ তেজান কাবা দুই মেয়াদের পর ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছেন৻ সিয়েরা লিওনের ভোটাররা পুরো দেশ জুড়ে স্থাপিত ছয় হাজার ভোট কেন্দ্রে ভোট দেয়ার জন্য সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে যান৻ রাজধানী ফ্রী টাউনের একটি ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা একজন ভোটার বলেন সিয়েরা লিওনে পরিবর্তনের সময় এসেছে৻ বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ, সুতরাং একটি নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য নতুন করে ভোট দেয়ারও সময় এসেছে৻ দশ বছর ধরে এক গৃহযুদ্ধের পর সিয়েরা লিওনের অবকাঠামো পুরো ধ্বংস হয়ে যায়৻ গত সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাটের অবস্থা এখন আরও খারাপ৻ এরকম অবস্থায় এই নির্বাচন করাটাও সিয়েরা লিওনের কর্তৃপক্ষের জন্য ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ৻ সিয়েরা লিওনে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এর আগের নির্বাচনটি হয়েছিল ২০০২ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে৻ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সিয়েরা লিওনের নির্বাচন কমিশন যেভাবে এবারের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তার প্রশংসা করেছেন৻ সিয়েরা লিওনের অতীত ইতিহাস যেভাবে অভুত্থান আর পাল্টা অভ্যুত্থান এবং রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত, সেখানে এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু৻ নির্বাচনী প্রচারাভিযানকে কেন্দ্র করে দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের হুমকি দেয়ার অভিযোগ এনেছেন৻ তবে সেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধি ভিক্টর অ্যাঙ্গেলু আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতারা শান্তি বজায় রাখতে তাদের ভূমিকা পালন করবেন৻ ভিক্টর অ্যাঙ্গেলু বলছেন সিয়েরা লিওনে যে উত্তেজনা রয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু একই সঙ্গে এতেও কোন সন্দেহ নেই যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলে যেসব গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন তারাও যথেষ্ট অভিজ্ঞ৻ তারা জানেন যে নির্বাচনের পর তাদের ভূমিকা হবে সিয়েরা লিওনে যাতে শান্তি বিরাজ করে তা নিশ্চিত করা৻ এই নির্বাচনে মোট সাতজন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, কিন্তু এদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তিনজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৻ প্রথম রাউন্ডে জয়ী হওয়ার জন্য কোন প্রার্থীকে কমপক্ষে ৫৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে৻ কিন্তু নির্বাচনে কোন একজন প্রার্থীকে যখন বিজয়ী ঘোষণা করা হবে তা অন্যরা মেনে নেবেন কিনা- তার ওপরই নির্ভর করবে সিয়েরা লিওন গণতন্ত্রের এই পরীক্ষায় বিজয়ী হবে কিনা৻ | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||